![]() |
| ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা |
বাংলাদেশের লোকসংগীত কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয় বরং এটি এই পলিগঠিত বদ্বীপের মানুষের হাজার বছরের জীবনসংগ্রাম, আধ্যাত্মিকতা এবং সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। বাংলার মাটির গভীরে এই সংগীতের যে শেকড় প্রোথিত রয়েছে তা বুঝতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে আদিম জনপদ ও তাদের সহজ-সরল জীবনযাত্রার দিকে। লোকসংগীতের জনপ্রিয়তার মূল রহস্য নিহিত রয়েছে এর অকৃত্রিমতার মধ্যে, যা কোনো কৃত্রিম অলংকারের ধার ধারে না। গ্রামীণ মানুষের প্রাত্যহিক কাজ যেমন লাঙল চালানো, নৌকা বাওয়া, ফসল কাটা কিংবা জাঁতায় ধান ভানার সময় যে সুর স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্গত হয় তাই লোকসংগীতের প্রাণ। এই গানগুলোতে কোনো তাত্ত্বিক ব্যাকরণের জটিলতা নেই বরং আছে হৃদয়ের আকুতি যা সরাসরি অন্য একজন মানুষের হৃদয়ে গিয়ে কড়া নাড়ে। লোকসংগীতের বিভিন্ন শাখা যেমন বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, মারফতি, মুর্শিদি, জারি, সারি এবং কবিগান প্রতিটিই একেকটি স্বতন্ত্র মহিমায় ভাস্বর। ভাটিয়ালি গানের কথা চিন্তা করলে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল জলরাশি আর মাঝির একাকীত্বের গল্প। নদীর স্রোত আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দের সাথে তাল মিলিয়ে যখন মাঝি গেয়ে ওঠেন তখন সেই সুর কেবল জলপথেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং তা প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়। আবার উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ প্রান্তর আর গরুর গাড়ির চাকার কচকচ শব্দের সাথে মিশে থাকা ভাওয়াইয়া গান আমাদের মনে করিয়ে দেয় বিরহী হৃদয়ের অব্যক্ত যন্ত্রণার কথা। লোকসংগীতের জনপ্রিয়তার আরেকটি বিশাল কারণ হলো এর আধ্যাত্মিক সংযোগ। বিশেষ করে বাউল গান বা লালন সাঁইয়ের দর্শনের দিকে তাকালে দেখা যায় যে তারা মানুষের দেহকেই মহাবিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গণ্য করেছেন। এই যে মনের মানুষকে খোঁজার আকুলতা বা নিজের ভেতরের সত্তাকে চেনার চেষ্টা এটি মানুষকে পার্থিব জগতের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। এই দর্শন অত্যন্ত সহজ ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে বলে এটি কেবল দার্শনিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং সাধারণ নিরক্ষর মানুষের কাছেও হয়ে উঠেছে জীবনের ধ্রুবতারা। লোকসংগীতের বাদ্যযন্ত্রগুলোও এর জনপ্রিয়তায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। একতারা, দোতারা, সারিন্দা, খমক আর ঢোলের যে মেঠো আওয়াজ তা যান্ত্রিক সভ্যতার কোলাহল থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়। আধুনিক যুগে এসেও লোকসংগীতের জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি বরং তা নতুন আঙ্গিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। শহরকেন্দ্রিক জীবনধারায় ক্লান্ত মানুষ যখন লোকসংগীতের সুর শোনে তখন সে নিজের অস্তিত্বের ঠিকানা খুঁজে পায়। লোকসংগীতের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে একটি জাতির ইতিহাস ও সমাজ বিবর্তনের চিত্র। রাজা-বাদশাদের কথা নয় বরং সাধারণ চাষাভুষা মানুষের সুখ-দুঃখের কথা এই গানে প্রাধান্য পায় বলে এটি গণমানুষের সংগীতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি ঋতু যেমন আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে তেমনি লোকসংগীতও ঋতুভেদে তার রূপ পরিবর্তন করে। বর্ষার জারি-সারি গান কিংবা শীতের পৌষপার্বণের গান গ্রামবাংলার সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। এই গানগুলো কেবল উৎসবের নয় বরং প্রতিবাদের ভাষাও বটে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে লোকসংগীতের সুর মানুষকে অদম্য সাহস জুগিয়েছে। তাই লোকসংগীত কেবল ঐতিহ্যের অংশ নয় বরং এটি আমাদের জাতীয় পরিচয়ের মেরুদণ্ড। সংগীতের এই বিশাল ভাণ্ডারে লোকজ বাদ্যযন্ত্রের যে শৈল্পিক ব্যবহার আমরা দেখি তা বিশ্বের আর কোনো সংগীত ধারায় সচরাচর খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। দোতারার টুংটাং শব্দ কিংবা বাঁশির করুন সুর যখন গ্রামের মেঠোপথ ছাপিয়ে দিগন্তে মিশে যায় তখন মানুষের মনে এক অদ্ভুত বৈরাগ্য জন্ম নেয়। লোকসংগীতের প্রতিটি কথা ও চরণে গ্রামবাংলার প্রকৃতির গন্ধ পাওয়া যায়। কাদা মাটির সোঁদা গন্ধ আর বৃষ্টির ঝমঝম শব্দের সাথে লোকসংগীতের সুর মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। আমাদের দেশের লোকসংগীতের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর আঞ্চলিকতা। চট্টগ্রামের মেজবানি গান কিংবা মৈমনসিংহ গীতিকার পালাগানগুলো ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের পরিচয় বহন করলেও তা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। এই সর্বজনীনতা লোকসংগীতকে জনপ্রিয়তার অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যখন একজন শিল্পী গেয়ে ওঠেন আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম তখন কেবল একটি বিশেষ সময়ের কথা মনে পড়ে না বরং আমাদের হারানো শৈশব আর গ্রামীণ ভ্রাতৃত্ববোধের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। এই সংগীতে জীবনদর্শনের যে গভীরতা রয়েছে তা শিক্ষিত বা অক্ষরজ্ঞানহীন সকল স্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। মানুষের মনের গহীনে যে অব্যক্ত কথাগুলো জমা থাকে লোকসংগীত তা অত্যন্ত নিপুণভাবে প্রকাশ করে। এতে নেই কোনো আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের অতিশয্য কিংবা নেই কোনো কৃত্রিম কণ্ঠশৈলীর প্রয়োগ। সাধারণ কণ্ঠের সেই অসাধারণ সুরই হলো লোকসংগীতের আসল শক্তি। আজ বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের লোকসংগীত যখন গ্লোবাল মিউজিক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে তখন আমাদের গর্বের শেষ থাকে না। কোক স্টুডিও বাংলার মতো প্ল্যাটফর্মগুলো যখন আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের সাথে আমাদের লোকজ সুরকে মেলবন্ধন ঘটায় তখন দেখা যায় যে এই সুরগুলো কতটা শক্তিশালী। তরুণ প্রজন্ম যারা পশ্চিমা সংগীতে অভ্যস্ত ছিল তারাও আজ লোকসংগীতের প্রেমে পড়ছে। এটি প্রমাণ করে যে সত্য ও সুন্দরের সুর কখনো পুরনো হয় না। লোকসংগীত আমাদের পূর্বপুরুষদের আমানত যা আমাদের সংস্কৃতির মূল ভিত্তিকে শক্ত করে ধরে রেখেছে। এই গানের প্রতিটি ছত্রে আছে সাম্য ও মানবতার জয়গান। মানুষের মাঝে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একসাথে মেতে ওঠার এক অদৃশ্য শক্তি এই গানগুলোর মধ্যে কাজ করে। বিশেষ করে জারি গান যখন দলগতভাবে পরিবেশিত হয় তখন তা সামাজিক সংহতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করে। একইভাবে নৌকাবাইচের সময় যখন সারি গান গাওয়া হয় তখন তা মানুষের শারীরিক শ্রমকে লাঘব করে এবং এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। এই যে শ্রমের সাথে সুরের মিলন এটি লোকসংগীতের এক অনন্য দর্শন। বাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজে লোকসংগীতের গুরুত্ব অপরিসীম। বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে লোকসংগীত কৃষকের নিত্যসঙ্গী। ফসল কাটার ধুম পড়লে নবান্ন উৎসবে লোকসংগীতের জয়জয়কার পড়ে যায় গ্রামজুড়ে। পিঠাপুলির উৎসব আর গানের আসর মিলে এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি করে। গ্রামবাংলার এই সহজ অনাড়ম্বর জীবনের যে প্রতিচ্ছবি লোকসংগীতে পাওয়া যায় তা যান্ত্রিক শহরের মানুষের কাছে এক বড় পাওয়া। তাই বলা যায় লোকসংগীত কেবল গান নয় এটি একটি জীবনপদ্ধতি। এটি মানুষকে মাটির কাছাকাছি থাকতে শেখায় এবং শেখায় পরমতসহিষ্ণুতা। লোকসংগীতের বাউলেরা যখন একতারা হাতে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ঘুরে বেড়ান তখন তারা শান্তির বাণী প্রচার করেন। তাদের গানে নেই কোনো ঘৃণা বা বিদ্বেষের স্থান। এই যে সর্বজনীন মানবপ্রেম এটিই লোকসংগীতের জনপ্রিয়তার প্রধান ভিত্তি। ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে আমরা হয়তো অনেক দূরে চলে এসেছি কিন্তু যখনই লোকসংগীতের একটি কলি আমাদের কানে বাজে তখন আমরা মুহূর্তেই ফিরে যাই আমাদের শিকড়ের টানে। সংগীতের এই অমূল্য রত্নকে সংরক্ষণ করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। এটি আমাদের জাতীয় অহংকার এবং আমাদের জাতিসত্তার প্রধান পরিচয়। বাংলাদেশের প্রতিটি ধূলিকণায় যেন মিশে আছে লোকসংগীতের কোনো না কোনো সুর। এই সুর অমর এবং অক্ষয় যা অনন্তকাল ধরে বাঙালির হৃদয়ে অনুরণিত হতে থাকবে। লোকসংগীতের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে আমাদের লোকজ উৎসবগুলোর বিশাল অবদান। মেলা বা পার্বণে যখন ঢোলের শব্দ কানে আসে তখন প্রতিটি বাঙালির রক্তে নাচন শুরু হয়। লোকসংগীতের যে আবেদন তা কখনো কোনো সীমানার প্রাচীরে আটকে থাকেনি। কাঁটাতার পেরিয়ে এই সুর ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। তাই তো বিশ্বের বড় বড় সংগীত গবেষকরা আজ বাংলার মাটির গানের ওপর গবেষণা করছেন। তারা অবাক হয়ে দেখছেন যে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই সাধারণ মানুষ এমন সব গভীর দর্শন সমৃদ্ধ গান সৃষ্টি করেছেন। লোকসংগীতের এই মহিমা এবং এর প্রভাব আমাদের সংস্কৃতিকে এক অনন্য উচ্চতা দান করেছে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে বলা যায় যে প্রযুক্তির যতই পরিবর্তন আসুক না কেন লোকসংগীত তার নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে টিকে থাকবে। কারণ এটি মানুষের হৃদস্পন্দনের সুর। প্রতিটি নতুন দিনের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে লোকসংগীত নতুন প্রাণ পায় এবং আমাদের ঐতিহ্যকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই সংগীতেই নিহিত আছে আমাদের অস্তিত্বের গভীর রহস্য। আমাদের পূর্বপুরুষেরা তাদের জীবনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা এই গানের মধ্য দিয়ে আমাদের জন্য রেখে গেছেন। এটি এক বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার যা থেকে আমরা প্রতিমুহূর্তে নতুন কিছু শিখতে পারি। লোকসংগীত আমাদের বিনয় শেখায় এবং আমাদের প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে। এই যে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এটিই বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। তাই লোকসংগীত কেবল একটি দেশ বা জাতির নয় এটি গোটা মানবজাতির সম্পদ। বাংলার লোকসংগীতকে বাঁচিয়ে রাখা মানে আমাদের নিজেদের পরিচয়কে বাঁচিয়ে রাখা। এটি আমাদের আত্মার খোরাক জোগায় এবং সংকটের সময়ে মানসিক শক্তি দেয়। সব মিলিয়ে বলা যায় যে লোকসংগীত হলো বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রাণভোমরা যার আবেদন কখনোই ফুরাবে না। লোকসংগীতের প্রতিটি ধুন আর প্রতিটি তান আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কে এবং আমাদের গন্তব্য কোথায়। সংগীতের এই বিশাল সাম্রাজ্যে বাংলার লোকসংগীত সবসময়ই তার স্বকীয়তা ও জনপ্রিয়তায় রাজত্ব করবে। আধুনিকতার ভিড়ে আমরা হয়তো অনেক সময় নিজেদের ভুলে যাই কিন্তু লোকসংগীত আমাদের আবার নিজেদের কাছে ফিরিয়ে আনে। এর সরলতা আর গভীরতা আমাদের জীবনের জটিলতাকে কমিয়ে দেয়। তাই লোকসংগীতের জয়যাত্রা চিরকাল অব্যাহত থাকবে এটাই আমাদের বিশ্বাস। এর সুরের মূর্ছনা আকাশ বাতাস ছাপিয়ে চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে দোলা দিয়ে যাবে। বাংলাদেশের লোকসংগীত যে উচ্চতায় আসীন তা অর্জন করা সহজ কোনো বিষয় নয় এটি হাজার বছরের সাধনার ফল। এই সাধনা বৃথা যেতে পারে না। লোকসংগীতের জয়গান গাওয়া মানে আমাদের শেকড়কে সম্মান জানানো। আমাদের সংস্কৃতির এই আলোকবর্তিকা প্রজ্বলিত রাখার শপথ নিতে হবে আমাদের সকলকেই। এই সুরেই আমাদের মুক্তি আর এই সুরেই আমাদের জয়। বাংলার লোকসংগীত আমাদের গর্ব আমাদের ভালোবাসা এবং আমাদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। সংগীতের এই ধারায় মিশে আছে মা মাটি আর মানুষের ঘাম। এই ত্রিবেণী সঙ্গমই লোকসংগীতকে করেছে অনন্য এবং অজেয়। আজকের এই যান্ত্রিক যুগে লোকসংগীত যেন এক পশলা বৃষ্টির মতো যা আমাদের ক্লান্ত মনকে শীতল করে দেয়। তাই লোকসংগীতের প্রাসঙ্গিকতা কোনোদিন ফুরাবার নয়। এটি ছিল এটি আছে এবং এটি থাকবে মানুষের অন্তরের গহীন কোণে। চিরকাল ধরে এই সুরের ধারা বয়ে চলবে আমাদের রক্তে এবং আমাদের অস্তিত্বে। বাংলাদেশের লোকসংগীতের এই জয়গান কেবল একটি প্রতিবেদন নয় এটি আমাদের অস্তিত্বের এক অখণ্ড কথামালা। এই সুরই আমাদের শেষ আশ্রয় এবং এই সুরই আমাদের নতুন করে পথ দেখাবে। সংগীতের এই মহাকাশে বাংলাদেশের লোকসংগীত একটি উজ্জ্বল ধ্রুবতারা হয়ে জ্বলবে অনন্তকাল ধরে। এর জনপ্রিয়তার রহস্য কেবল আমাদের সংস্কৃতিতেই নয় বরং আমাদের প্রতিটি নিশ্বাসে মিশে আছে। এই অমলিন সুরের আবেদন চিরন্তন যা আমাদের ইতিহাসকে বহন করে নিয়ে যাবে আগামী প্রজন্মের কাছে। আমাদের লোকসংগীত আমাদের পরিচয় আমাদের অহংকার।
